আস্থাহীনতায় পুঁজিবাজারে হাত গুটিয়ে নিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা
শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: আস্থাহীনতায় পুঁজিবাজার থেকে হাত গুটিয়ে নিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা যার ফলস্বরূপ সাম্প্রতিক সময়ে চরম স্থবিরতায় ধুঁকছে দেশের অর্থনীতির এই প্রধান খাতটি। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হলেও পুঁজিবাজারকে আস্থায় নিতে পারছেন না বিনিয়োগকারীরা। কারণ অতীতে বারবার রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে বিভিন্ন উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান ও তাদের সহযোগীরা পুঁজিবাজারকে যাচ্ছে তাই ব্যবহার করেছে। দুই দুই বারের বিপর্যয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন হাজার হাজার বিনিয়োগকারী।
শেষ বিপর্যয় ২০১০ সালের পর পুঁজিবাজার আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। তখন যে রক্তক্ষরণ হয় তার রেশ এখনো বয়ে চলেছে দেশের পুঁজিবাজার। ফলে পুঁজিবাজারে বর্তমানে এক ধরনের স্থবিরতা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সূচকের ওঠানামা থাকলেও সামগ্রিকভাবে বাজারে গতি নেই, লেনদেন সীমিত এবং বিনিয়োগকারীদের বড় একটি অংশ এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গত এক মাসে অধিকাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারী বড় লোকসানের মধ্যে রয়েছেন। অনেকেই মাসের পর মাস লেনদেনে অংশগ্রহণ করছেন না। এ অবস্থা থেকে কবে মুক্তি পাবেন তারও কোনো দিশা পাচ্ছেন না তারা। সবমিলিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তায় আটকে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
একাধিক বিনিয়োগকারীরা বলছেন, পুঁজিবাজারে গত এক মাসের বেশি সময় ধরে পতনের কারণে লোকসানের পাল্লা ভারী হচ্ছে, সে কারণে তারা শেয়ার বিক্রি না করে সামনে বাজার ভালো হবে, সেই প্রত্যাশায় শেয়ার ধরে রাখছেন। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে পুঁজিবাজার ততই তলানিতে যাচ্ছে। ফলে লোকসানের পাল্লা আরও ভারী হচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত বিনিয়োগকারীদের নীরব রক্তক্ষরণ হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, পুঁজিবাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের মারাত্মক আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে মাঝে মধ্যে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও তা স্থায়ী হচ্ছে না। বাজার একটু ঊর্ধ্বমুখী হলেই বিক্রির চাপ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে পতনের মধ্যেই আবদ্ধ থাকছে পুঁজিবাজার। এছাড়া মাঝে মধ্যে কয়েকটি শেয়ার দিয়ে সূচক বাড়লেও অধিকাংশ শেয়ারের দরপতন হচ্ছে। আবার বিনিয়োগকারীদের বড় অংশ লোকসানে থাকায় তাদের ক্রয়-বিক্রের পরিমাণ কমে গেছে। এতে বাজারে তারল্য সংকট দেখা যাচ্ছে এবং পুঁজিবাজারের ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
তারা আরও বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে বাজারে নতুন আইপিও আসছে না, এটিও পুঁজিবাজারের জন্য একটি বড় সমস্যা। আইপিও না আসার কারণে বিনিয়োগের বিকল্প ক্ষেত্র যেমন সৃষ্টি হচ্ছে না, তেমনি বাজারে নতুন বিনিয়োগকারীও আসছেন না। আবার বাজারে মন্দা থাকায় অনেকে পুঁজিবাজার থেকে টাকা তুলে নিয়ে ব্যাংক আমানত, ট্রেজারি বিল ও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করেছেন।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে বিনিয়োগকারী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা প্রতিদিনই আশায় থাকি বাজার ভালো হবে, কিন্তু কিছুতেই বাজার ভালো হচ্ছে না। গত এক মাসের বেশি সময় ধরে বাজারে মন্দা চলছে। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের লোকসান বেড়েই চলেছে। বর্তমানে বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী নতুন করে ২০ -২৫ শতাংশ পর্যন্ত লোকসানে রয়েছেন। ফলে বাজারে তারা নিস্কিয় হয়ে পড়েছেন।
ডিএসইর এক সদস্য বলেন, বর্তমান পুঁজিবাজারের বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিনিয়োগকারীর আস্থা। দীর্ঘদিন ধরে কাঙ্খিত রিটার্ন না পাওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারী বাজার থেকে দূরে রয়েছেন। নতুন বিনিয়োগকারীর প্রবেশও তুলনামূলকভাবে কম। বিশেষ করে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা বাজারে অনিশ্চয়তা ও দরপতন এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে স্পষ্ট দিক নির্দেশনার অভাবে ঝুঁকি নিতে আগ্রহী হচ্ছে না।



