পুঁজিবাজারে ‘আলাদিনের চেরাগ’ লোকসানী শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ
শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের লোকসানী কোম্পানি শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার দর অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে বলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) তদন্তে উঠে এসেছে। ফলে কোম্পানিটিতে বিনিয়োগের আগে বিনিয়োগকারীদের সচেতন হওয়া উচিত বলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ মনে করছেন। তবে পুঁজিবাজারের কিছু বিনিয়োগকারীর কাছে অনেকটাই রূপকথার ‘আলাদিনের চেরাগ’ হিসেবে দেখা দিয়েছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ার দাম বেড়েছে প্রায় তিনগুণ।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের গত ৩ মে শেয়ার দর ছিল ১৫.৩০ টাকায়। যা ১০ আগস্ট লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ৪২.৫০ টাকায়। অর্থাৎ ৩ মাসে শেয়ারটির দর বেড়েছে ২৭.২০ টাকা বা ৯৭ শতাংশ। মুলত কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পুঁজিবাজারে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার নিয়ে কারসাজি চলছে। এমনকি কোন কিছু না জেনেই কৃত্রিম ক্রেতার ফাঁদে পড়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছে সহজ সরল বিনিয়োগকারীরা।
কোম্পানিটির লভ্যাংশের ইতিহাস খুব এক ভালো না থাকলেও মাত্র ৩ মাসের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়ে তিনগুন হয়েছে। মুলত এ শেয়ারটি নিয়ে বাজারে ওপেন কারসাজি চলছে। তবে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার দরের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির বিষয়টি শনাক্ত করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। তবে ডিএসইর সর্বশেষ উপাত্ত বলছে, শেয়ার দর রেকর্ড স্পর্শ করলেও প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বড় ধরনের আর্থিক লোকসান ও ব্যবসায়িক মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
ব্যবসার ক্ষেত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ মূলত একটি স্পিনিং মিল বা সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। এটি মূলত এক্রিলিক কটন বা সুতি এবং বিভিন্ন সিন্থেটিক সুতা প্রস্তুত ও বাজারজাত করে থাকে। বিশেষ করে দেশের সোয়েটার শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ সহায়তা হিসেবে এক্রিলিক সুতা সরবরাহে কোম্পানিটির বড় ভূমিকা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আগে ‘আর এন স্পিনিং মিলস লিমিটেড’ নামে পরিচিত ছিল এবং পরে নাম পরিবর্তন করা হয়।
তবে কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের দিকে তাকালে দেখা যায় এক হতাশাজনক চিত্র। সাম্প্রতিক প্রান্তিকগুলোয় শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস ধারাবাহিকভাবে নেতিবাচক ধারায় রয়েছে। চলতি বছরের সর্বশেষ তৃতীয় প্রান্তিক শেষে শেয়ার প্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় ০.৭১ টাকা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানিটি সামান্য হলেও মুনাফায় ছিল।
ফলে সার্বিকভাবে কোম্পানিটির বাৎসরিক শেয়ার প্রতি আয় ঋণাত্মক হয়ে দাঁড়িয়েছে মাইনাস ২.৫৪ টাকায়। একই সঙ্গে কমেছে কোম্পানির নিট সম্পদ মূল্য বা এনএভি। আগের বছরের ১০ টাকা ৮ পয়সা থেকে এনএভি কমে এখন দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭ টাকা ৯২ পয়সায়। শেয়ার প্রতি আয় মাইনাসে থাকায় কোম্পানিটির মূল্য-আয় অনুপাত বর্তমানে ঋণাত্মক অবস্থানে রয়েছে।
২০১০ সালে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানিটির মোট শেয়ারসংখ্যা ৩০ কোটি ৩৫ লাখ। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৩৬.৬৩ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৫ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে শূন্য দশমিক ০২ শতাংশ শেয়ার। বাকি ৩৮ দশমিক ১৭ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।



