সাখাওয়াত হোসেন, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজার ব্যবসা সবচেয়ে সহজ ব্যবসা, আবার পৃথিবীতে এর চেয়ে কঠিন ব্যবসা নেই। এজন্য একজন বিনিয়োগকারীকে যে কোন শেয়ারে বিনিয়োগ করার আগে অনেক কৌশল অবলম্বন করতে হবে। স্থান কাল পাত্র ভেদে বিনিয়োগকারীদের ভিন্ন ভিন্ন কৌশল তৈরি করতে হবে। আর এসব কৌশল অবলম্বন করলে শেয়ার ব্যবসা করা অনেক সহজ। আসলে একজন সাধারন মানুষ যদি ডিমের ব্যবসা করে তার ডিম সর্ম্পকে অনেক কিছু জানা দরকার হয়।

তেমনি শেয়ার ব্যবসা করার ক্ষেত্রে একজন বিনিয়োগকারীকে অনেক কিছু জানতে হবে। তেমনি কিছু টেকনিক্যাল বিষয় জানতে হবে। তাহলে সফলতা হওয়া সম্ভব। তাছাড়া পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়ছে। অনেকেই এটিকে লাভজনক আয়ের উৎস হিসেবে বিবেচনা করছেন। তবে পর্যাপ্ত জ্ঞান ও বিশ্লেষণ ছাড়া বিনিয়োগ করলে লাভের পরিবর্তে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

দীর্ঘদিন ধরেই দেশের পুঁজিবাজার মন্দার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। ফলে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা এখন বড় লোকসানের মধ্যে রয়েছেন। দীর্ঘ সময় জুড়ে মন্দা থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম অবমূল্যায়িত অবস্থায় রয়েছে। এমনকি সার্বিক বাজারও এক প্রকার অবমূল্যায়িত অবস্থায় পড়ে আছে।

মুলত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই) ৯ এর নিচে নেমে গেছে। ফলে বিদায়ী সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ৮.৭৯ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে পিই রেশিও অবস্থান করছে ৮.৭৫ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও ০.০৪ পয়েন্ট বা ০.৪৫ শতাংশ কমেছে।

ফলে সার্বিকভাবে পুঁজিবাজার অবমূল্যায়িত থাকলেও কিছু কোম্পানির শেয়ারের দাম বর্তমানে অতিমূল্যায়িত অবস্থায় রয়েছে। মন্দার মধ্যেও এসব কোম্পানির শেয়ারের দাম সম্প্রতি অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকি নির্ণয়ের অন্যতম একটি হাতিয়ার মূল্য-আয় অনুপাত বা পিই রেশিও। সাধারণত ১০-১৫ পিইকে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকিমুক্ত ধরা হয়।

আর কোনো কোম্পানির পিই ১০ এর নিচে চলে গেলে, ওই কোম্পানির শেয়ারের দাম অবমূল্যায়িত বা বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ ধরা হয়। সে হিসেবে বর্তমান পুঁজিবাজার বিনিয়োগের জন্য অনেকটাই উপযুক্ত। তবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সবসময় ঝুঁকিপূর্ণ। তাই পুঁজিবাজারের কোনো বিনিয়োগকেই নিরাপদ বলা যায় না।

অবশ্য বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যথাযথ বিনিয়োগ জ্ঞান থাকলে পুঁজিবাজার থেকে ভালো মুনাফা করা সম্ভব। সঠিক সময়ে সঠিক কোম্পানি বাছাই করে বিনিয়োগ করতে পারলে ভালো মুনাফা পাওয়া যায়। একইভাবে ভুল সময়ে ভুল কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করলে লোকসানের মধ্যে পড়তে হয়। তাই বিনিয়োগকারীদের উচিত সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া।