২২ কোম্পানির ‘নো ডিভিডেন্ডে’ হতাশ শেয়ারহোল্ডাররা
বিশেষ প্রতিনিধি, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ভিন্ন ভিন্ন খাতের ২২টি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ সমাপ্ত অর্থবছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য নো ডিভিডেন্ড ঘোষণা দিয়েছে। ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নো ডিভিডেন্ড দেওয়ার তালিকায় রয়েছে: আজিজ পাইপস, জিল বাংলা সুগার মিলস, শ্যামপুর সুগার মিলস, উসমানিয়া গ্লাস, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস (বিবিএস), ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক (আইএসএন), ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), রহিমা ফুড করপোরেশন, স্টাইলক্রাফট, জাহিন স্পিনিং, দ্য পেনিনসুলা চিটাগং, সাফকো স্পিনিং, এপেক্স ট্যানারী, দেশবন্ধু পলিমার, বসুন্ধরা পেপার মিলস, মেঘনা সিমেন্ট, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, মুন্নু অ্যাগ্রো, জুট স্পিনার্স, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ ও সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস।
কোম্পানিগুলোর মধ্যে টানা দুই বছর লভ্যাংশ ঘোষণা না করায় চারটি কোম্পানিকে ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোম্পানিগুলো হলো–বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস, ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ এবং দেশবন্ধু পলিমার। এর মধ্যে বিবিএস ও আইএসএনকে ২৮ অক্টোবর থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। আইসিবির ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে ২৯ অক্টোবর থেকে।
ডিএসইর নিয়ম অনুযায়ী, টানা দুই বছর লভ্যাংশ ঘোষণা না করলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে দেওয়া হয়। এই ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে মার্জিন ঋণ সুবিধা পাওয়া যায় না। বর্তমানে ডিএসইতে মোট ১৭টি কোম্পানি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন করছে।
এছাড়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে কয়েকটির আর্থিক অবস্থা এত খারাপ যে তাদের শেয়ারপ্রতি লোকসান ৭২ টাকারও বেশি। আবার কয়েকটি কোম্পানি মুনাফা করেও বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আর্থিক ফলাফল প্রকাশের পর শতাধিক তালিকাভুক্ত কোম্পানি লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৮২টি কোম্পানি নগদ, বোনাস অথবা উভয় ধরনের লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে। বিপরীতে ২২টি কোম্পানি কোনো লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
লোকসানের দিক থেকে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে জিল বাংলা সুগার মিলস। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ৭২ টাকা ৩২ পয়সা। এর পরেই রয়েছে মেঘনা সিমেন্ট। কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান ৬৩ টাকা ৬৮ পয়সা। শ্যামপুর সুগার মিলসের শেয়ারপ্রতি লোকসান ৪২ টাকা ৯৪ পয়সা এবং বসুন্ধরা পেপার মিলসের ৪২ টাকা ৭৪ পয়সা।
জুট স্পিনার্সের শেয়ারপ্রতি লোকসান বেড়ে ৪০ টাকা ২০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। আগের অর্থবছরে এ লোকসান ছিল ৩৬ টাকা ৩২ পয়সা। রেনউইক যজ্ঞেশ্বরের লোকসানও বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ৭ টাকা ৭৬ পয়সা। এ ছাড়া উসমানিয়া গ্লাসের শেয়ারপ্রতি লোকসান ৪ টাকা ৭৯ পয়সা এবং আজিজ পাইপসের ৩ টাকা ৭৭ পয়সা।
রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) সমন্বিত শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৭ টাকা ৫২ পয়সা। আগের অর্থবছরে এ লোকসান ছিল ১৪ টাকা। লোকসান কমলেও কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) কমে ৩০ টাকা ২৬ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। আগের বছর যা ছিল ৩৭ টাকা ৪৫ পয়সা।
বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমসের শেয়ারপ্রতি লোকসান বেড়ে ৯১ পয়সা হয়েছে, আগের বছর যা ছিল ৫৯ পয়সা। কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি এনএভি কমে ১০ টাকা ৬৯ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্কের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫১ পয়সা। আগের বছর এ লোকসান ছিল ৪৩ পয়সা। কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি এনএভি কমে ১ টাকা ৯১ পয়সায় নেমেছে।
রহিমা ফুড করপোরেশনও মুনাফা থেকে লোকসানে নেমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২৫ পয়সা। আগের অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৫৬ পয়সা। শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৬০ পয়সা। আগের বছর কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ৪ পয়সা মুনাফা করেছিল।
তবে লভ্যাংশ না দেওয়ার তালিকায় থাকা সব কোম্পানিই লোকসানে নেই। দেশবন্ধু পলিমার ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ৩ টাকা ১৫ পয়সা মুনাফা করেছে। মুন্নু অ্যাগ্রোর শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৪ পয়সা। মুনাফা করার পরও কোম্পানি দুটি শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি।



