শহীদুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: চরম স্থবিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার। বিনিয়োগকারীদের প্রশ্ন দেশের পুঁজিবাজার হাটঁছে কোন পথে। আমাদের দেখার মতো কি কেউ নেই। ধারাবাহিক পতনে দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে বিনিয়োগকারীদের পুঁজি। ফলে টানা দরপতনে চলছে বিনিয়োগকারীদের রক্তক্ষরণ। এছাড়া ডুবতে থাকা পুঁজিবাজার টেনে তুলবে কোন কান্ডারী? ফলে দেশের পুঁজিবাজারে দরপতনের ধারা যেন থামছেই না। তবে নির্বাচনের পর নতুন সরকার ও নতুন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। এর ওপর ভর করে কিছুটা গতি ফিরেছিল দেশের পুঁজিবাজারে।

তবে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন বাস্তবে না ঘটায় এখন পুঁজিবাজারে দেখা দিয়েছে উল্টো চিত্র। টানা দরপতনে গত আড়াই মাসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রধান সূচক ৫৭০ পয়েন্ট কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও আস্থার সংকট তীব্র হচ্ছে। আবারও পুঁজি হারানোর আতঙ্ক পেয়ে বসেছে বিনিয়োগকারীদের।

তবে গত জুন মাসে পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নতুন চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছেন মাসুদ খান। মুলত দায়িত্ব পাওয়ার ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে কতটুকু সফল হয়েছেন এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বিনিয়োগকারীসহ বাজার সংশ্লিষ্টদের মাঝে। বরং বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পাল্লা আবারও ভারী হচ্ছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আবারও বিনিয়োগ করা পুঁজি হারানোর শঙ্কা পেয়ে বসার পাশাপাশি আস্থার সংকটও তৈরি হচ্ছে। ফলে ক্রমান্বয়ে ডুবতে বসেছে পুঁজিবাজার।

বাজার বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পুঁজিবাজারে বর্তমান দুর্বলতার পেছনে একাধিক মৌলিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভুল সিদ্ধান্ত ও বিগত সরকারের লুটপাটই অব্যাহতভাবে পুঁজিবাজারে দরপতন হওয়ার কারণ। এর মধ্যে প্রথমত ডিএসই অযোচিত হস্তক্ষেপ, বিশেষ করে ডিএসইর তদন্ত-চিঠি-ফোন ইস্যুতে পুঁজিবাজারে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। মুলত পুঁজিবাজারে শেয়ার কেনাবেচা ও অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্তকরণ এবং বাজার তদারকির নামে অতিরিক্ত নজরদারির ভয়ে বড় বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন সূচকের পতনে কমেছে লেনদেন ও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৫১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৩৩৩ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৩৭ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ২৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৪২ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৬ টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৮৬ টির, দর কমেছে ২৪৯ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫১ টির। ডিএসইতে ৪১৮ কোটি ২২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৬৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪৮২ কোটি ১৯ লাখ টাকার।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১০৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৩৮৯ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৮২ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৭৬ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৮৭ টির এবং ১৯ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১৬ কোটি ২২ লাখ ৩১ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।