দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: অবৈধ উপায়ে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাত ও শেয়ার বিক্রির অর্থ পরিশোধ না করা সহ বহুমাত্রিক অসৎপন্থা অবলম্বনে অর্থ লোপাটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অর্থমন্ত্রণালয় বিএসইসিকে নিদের্শ দিয়েছে। ফলে দেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে মশিউর সিকিউরিটিজের (ট্রেক নং-১৩৪) বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও কর্মকর্তারা যোগসাজোস করে বিনিয়োগকারীদের প্রায় ১৬১ কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন।

গত বছর ব্রোকারেজ হাউজটির পরিচালকসহ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শেয়ার ও তহবিল তছরুপের অভিযোগ মানি লন্ডারিং আইনের আওতায় ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

ফলে গত দেড় বছর আগে মশিউর সিকিউরিটিজের প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন মো. সাজ্জাদ হোসেন। সে সময় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি তিনি। অবশেষে বাধ্য হয়ে সরকারের দ্বারস্থ হয়েছেন জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর সাবেক এই পরিচালক। তার ১৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬৯৯ টাকার শেয়ার অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগটি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুলাই আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের পুঁজিবাজার-১ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। চিঠিতে মশিউর সিকিউরিটিজ কর্তৃক সাজ্জাদ হোসেনের অভিযোগের বিষয়ে বিধি মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে বিএসইসির চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে গত ২১ জুন বিও হিসাব (নম্বর- ৪২০৮৩) থেকে শেয়ার বিক্রি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেন এই ভুক্তভোগী।

মো. সাজ্জাদ হোসেনের অভিযোগ অনুসারে, বিও হিসাব থেকে তার অজান্তে ও অনুমতি ছাড়াই বেশ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার অবৈধভাবে বিক্রি করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ থাই অ্যালুমিনিয়াম ফুডের ১ লাখ ৪ হাজার ৭৪৪ টাকার ২ হাজার ২৬টি শেয়ার, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৯০ টাকা মূল্যের ১ হাজার শেয়ার, ঢাকা ডাইংয়ের ৩৭ হাজার ৭১৫ টাকা মূল্যের ১ হাজার ৫৯০টি শেয়ার এবং ওরিয়ন ফার্মার ১০ লাখ ৬৬ হাজার ৬৫০ টাকা মূল্যের ৭ হাজার ৫০০টি শেয়ার। সব মিলিয়ে আত্মসাৎ করা শেয়ারগুলোর মোট মূল্য ১৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬৯৯ টাকা।

আবেদনে সাজ্জাদ হোসেন জানালেন, ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর মশিউর সিকিউরিটিজ থেকে পাওয়া তার পোর্টফোলিও স্টেটমেন্ট এবং ৬ নভেম্বর সিডিবিএল থেকে পাওয়া দৈনিক বিও-আইসিন হোল্ডিং রিপোর্টের তুলনায় এই অসংগতি ধরা পড়ে। ওই সময় তিনি দেখতে পান, তার বিও হিসাবে থাকা উল্লিখিত শেয়ারগুলো উধাও হয়ে গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ডিএসইতে লিখিত অভিযোগ দিয়ে পুঁজিবাজারের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শেয়ারের মূল্য ফেরত পেতে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। একই অভিযোগের অনুলিপি পাঠানো হয়েছিল তৎকালীন বিএসইসি চেয়ারম্যানের কাছে।

এ বিষয় জানতে চাইলে মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন, প্রায় দেড় বছর আগে শেয়ার আত্মসাতের অভিযোগ করেছিলাম। তবে কোনো প্রতিকার পাইনি। তাই বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম।