মেহেদী হাসান, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে সার্কিট ব্রেকারসহ বাজার নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন মাপকাঠি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ক্ষমতা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) স্বাধীনভাবে প্রয়োগের সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে বে-মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের অর্জিত আয় পুনঃবিনিয়োগের সুযোগও অনুমোদন করেছে কমিশন। গত মঙ্গলবার বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১০১৮তম জরুরি কমিশন সভায় এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিএসই ও সিএসই তাদের নিজ নিজ প্রবিধানমালা অনুযায়ী সার্কিট ব্রেকার সীমাসহ বাজার নিয়ন্ত্রণের মাপকাঠি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের এখতিয়ার স্বাধীনভাবে প্রয়োগ করতে পারবে। এ জন্য প্রযোজ্য প্রবিধান, নীতিমালা এবং কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী স্টক এক্সচেঞ্জ দুটি নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে। এ সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ২০২১ সালের ১৭ জুন জারি করা বিএসইসির আদেশ (ঙৎফবৎ ঘড়. ইঝঊঈ/ঝঁৎাবরষষধহপব/২০২০-৯৭৫/২১৯) বাতিল (রিপিল) করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সভায় বে-মেয়াদি (ক্লোজড-এন্ড নয়) মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে নতুন একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ট্রাস্টি চাইলে সম্পদ ব্যবস্থাপকের প্রস্তাবের ভিত্তিতে এবং বিনিয়োগকারী ও পুঁজিবাজারের স্বার্থ বিবেচনায় অর্থবছর শেষে অর্জিত আয় লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ না করে তা ফান্ডে পুনঃবিনিয়োগের অনুমোদন দিতে পারবেন।

বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, এই নির্দেশনার ফলে এখন থেকে স্টক এক্সচেঞ্জ সার্কিট ব্রেকারসহ বাজার নিয়ন্ত্রণের অন্যান্য মাপকাঠি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন করতে পারবে। এ জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কোনো অনুমোদন নিতে হবে না। তবে স্টক এক্সচেঞ্জ যে সিদ্ধান্ত নেবে তা কমিশনকে অবহিত করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে সার্কিট ব্রেকারের একটি নিয়ম নির্ধারণ করা আছে। স্টক এক্সচেঞ্জ চাইলে সেটি বহাল রাখতে পারে, অথবা পরিবর্তনও করতে পারে। এটি সম্পূর্ণ তাদের ওপর নির্ভর করবে। এক্ষেত্রে স্টক এক্সেচেঞ্জ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেবে।

বর্তমানে কার্যকর থাকা সার্কিট ব্রেকারের নিয়ম অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম ২০০ টাকার নিচে তার দাম একদিনে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বাড়তে বা কমতে পারে। এছাড়া ২০১ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ৫০১ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৭ দশমিক ৫ শতাংশ, এক হাজার ১ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ, ২ হাজার ১ টাকা থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ এবং ৫ হাজার ১ টাকার বেশি হলে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়তে বা কমতে পারে।