দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: উন্নত প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, স্মার্ট উৎপাদন এবং উদীয়মান সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরেছে ড্যাফোডিল গ্রুপ। গতকাল শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ভাসানী নভোথিয়েটারে অনুষ্ঠিত সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিয়ার সামিট ২০২৬-এ ড্যাফোডিল গ্রুপ শিক্ষা, গবেষণা, শিল্প এবং উদ্ভাবনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি প্রযুক্তিনির্ভর ইকোসিস্টেম উপস্থাপন করেন। সম্মেলনে ড্যাফোডিল কম্পিউটারস প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং আইসিটি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ সংশ্লিষ্ট সচিবরা।

প্যাভিলিয়ন পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী ড্যাফোডিলের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত উদ্যোগ বিশেষ করে ‘ডিসিএল হাই-টেক’-এর ল্যাপটপ ও আইসিটি হার্ডওয়্যার উৎপাদন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন সক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করেন। ড্যাফোডিলের এই প্রয়াসের ভূয়সী প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী এসব পণ্যকে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পরিচয়ে বিশ্ববাজারে তুলে ধরার ওপর জোর দেন এবং দেশের প্রদেয় উৎপাদন সক্ষমতাকে গর্বের সঙ্গে উদযাপনের আহ্বান জানান।

প্যাভিলিয়ন পরিদর্শনের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের সৌজন্য মতবিনিময় হয়। এ সময় সবুর খান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান সম্পর্কে তুলে ধরেন এবং জানান, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম আরও স্বল্প ব্যয়ে ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এ ধরনের উদ্যোগের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় উপস্থিত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উপদেষ্টারাও বিষয়টির সঙ্গে একমত পোষণ করেন। পাশাপাশি সবুর খান প্রধানমন্ত্রীকে ড্যাফোডিল হাই-টেক পার্ক পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান এবং বলেন, বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হাই-টেক পার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণটি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে তিনি দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নকে আরও গতিশীল করতে ২০০১ সালে প্রয়াত সাবেক প্রাধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রতিষ্ঠিত আইসিটি টাস্কফোর্স পুনরায় সক্রিয় করার প্রস্তাব তুলে ধরলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেন।

ডিসিএল হাই-টেক: আধুনিক ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন সক্ষমতা প্রদর্শনে সারফেস মাউন্ট প্রযুক্তি, প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড সংযোজন, পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং গুণগত মান নিশ্চিতকরণের বিভিন্ন পর্যায় তুলে ধরা হয়।
ড্যাফোডিল রোবোটিক্স: রোবোটিক্স, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি, এমবেডেড সিস্টেম এবং এআই-ভিত্তিক বিভিন্ন উদ্ভাবনী সমাধানের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের তৈরি শিল্প-সহায়ক প্রকল্প প্রদর্শন করা হচ্ছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আইওটি, সাইবার নিরাপত্তা, এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি, ক্যাপস্টোন প্রকল্প ও স্টার্টআপ উন্নয়নের পাশাপাশি যৌথ গবেষণার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির পদক্ষেপগুলো উপস্থাপন করছে।

প্রতিষ্ঠানটির এআই-ভিত্তিক সমাধান যেমন ‘এআই প্রফেসর’, ‘সেন্ট্রাল এআই’, ‘আইইউএমএস’ এবং ‘১ কার্ড’ প্রদর্শন করছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি নিশ্চিত করে। বিয়ার সামিট ২০২৬-এ অংশগ্রহণের মাধ্যমে ড্যাফোডিল কম্পিউটারস নীতিনির্ধারক, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা, উন্নয়ন সহযোগী, বিনিয়োগকারী এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযো শিল্পগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করছে। একই সঙ্গে গবেষণা, প্রযুক্তি স্থানান্তর, যৌথ উদ্ভাবন এবং শিল্প-একাডেমিয়া অংশীদারিত্বের নতুন সম্ভাবনাও সৃষ্টি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষা, গবেষণা, শিল্প এবং প্রযুক্তির সমন্বিত এই উদ্যোগ বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ও উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি দেশের তরুণদের ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান, উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরও দক্ষ করে তুলতে সহায়ক হবে।