শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে ফের টানা দরপতন প্রবণতা দেখা দিয়েছে। ফলে আস্থার সংকটে খাদের কিনারে পুঁজিবাজার। গত সপ্তাহের শেষ দুই কার্যদিবস দরপতন হওয়ার পর চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের দরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। ফলে টানা দরপতন হওয়ায় বাজারের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে বিনিয়োগকারীরা। তেমনি লেনদেনেও গতি হারাচ্ছে। টানা দরপতনে অনেকে আর ভরসা রাখতে পারছেনা। আস্থাহীনতার কারণে পুঁজিবাজার আর আগের গতি ফিরে পাচ্ছেন না বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। এর মাধ্যমে টানা তিন কার্যদিবস পতনের মধ্যে থাকলো দেশের পুঁজিবাজার।

সম্প্রতি ‘বিএসইসি (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫’ এর খসড়া সংশোধনী প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ওই বিধিমালায় নতুন করে যুক্ত হওয়া ‘পিবি রেশিও’ (প্রাইস টু বুক ভ্যালু) নিয়ে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে প্রস্তাবনায় বিমা খাতকে মার্জিন ঋণ সুবিধার বাইরে রাখার গুঞ্জন উঠেছে। এতে পুরো বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ব্যাপকভাবে দরপতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ‘পিবি রেশিও’ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

মাসুদ খান বলেন, আমরা প্রথমে যখন কোনো পরিবর্তন দেখতে পাই, তখন সেটি না বুঝতে পেরে দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে যাই। মূল্য-আয় অনুপাত বা ‘পিই রেশিও’ আদিকাল থেকে চলে এসেছে এবং এটি সবার কাছে পরিচিত। কিন্তু ‘পিবি রেশিও’ নামটা নতুন শুনে তারা বুঝতে পারছে না, অথচ এটিও একটি ইন্টারন্যাশনাল প্র্যাকটিস।

তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি খসড়া মতামতের জন্য দেওয়া হয়েছে। তবে এটি চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নয়। মতামত নেওয়ার পর আপনারা যখন ফাইনাল বিধিমালাটি দেখতে পাবেন, তখন বুঝতে পারবেন আমরা কী সিদ্ধান্ত নিলাম।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দেখা মিলে। তবে অল্প সময়ের ব্যবধানে দাম কমার তালিকায় চলে আসে বেশি কোম্পানি। এতে সূচকও ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। মাঝে আর এক দফা সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়। তবে লেনদেনের শেষদিকে পুঁজিবাজারে রীতিমতো ঢালাও দরপতন হয়। এতে অধিকাংশ কোম্পানির দাম কমার তালিকায় নাম লেখানোর পাশাপাশি মূল্য সূচকের পতন দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়। ফলে সূচকের সাথে কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমাণে লেনদেন।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১৯ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৭৮৪ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৭৭ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৮৬ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৯ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১১৬ টির, দর কমেছে ২৪০ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৩ টির। ডিএসইতে ৭৮০ কোটি ৬৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১৫৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৯৮৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকার ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৪১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৪৭৮ পয়েন্টে। সিএসইতে ২১৯ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৫৭ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৩৪ টির এবং ২৮ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।