অনিয়ম প্রতিরোধে ১০০ ব্রোকারেজ হাউজ পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত
মেহেদী হাসান, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে অনিয়ম প্রতিরোধ ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা প্রায় ১০০টি ব্রোকারেজ হাউজ পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ব্রোকারেজ হাউজগুলোর ওপর নজরদারি জোরদারে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শনের জন্য নির্বাচিত আটটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে: শ্যামল ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট, ভিশন ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট, হাওলাদার ইক্যুইটি সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ, এরশাদ সিকিউরিটিজ, আর চৌধুরী সিকিউরিটিজ, এসএআর সিকিউরিটিজ ও এমএএইচ সিকিউরিটিজ। এছাড়া লাইসেন্স নবায়নের অংশ হিসেবে আজম সিকিউরিটিজ ও সিনথিয়া সিকিউরিটিজও পরিদর্শনের আওতায় আসবে।
বিএসইসি সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে ১০টি ব্রোকারেজ হাউজ পরিদর্শনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পরিদর্শন দলকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এসব পরিদর্শনে ব্রোকারেজ ও ডিলার কার্যক্রম, সিকিউরিটিজ আইন ও বিধি পরিপালন, গ্রাহকদের অর্থ ও শেয়ারের নিরাপত্তা, কনসোলিডেটেড কাস্টমার অ্যাকাউন্ট (সিসিএ) পরিচালনা এবং অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ (এএমএল/সিএফটি) সংক্রান্ত বিধি অনুসরণের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে।
বিএসইসি ইতোমধ্যে অনুমোদিত ভেন্ডরের মাধ্যমে সব ব্রোকারেজ হাউজে অভিন্ন ও সম্পাদন-অযোগ্য (আনএডিটেবল) ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে। কমিশনের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর তদারকির পাশাপাশি নিয়মিত মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন চালু হলে ব্রোকারেজ খাতে সুশাসন ও জবাবদিহি আরও শক্তিশালী হবে এবং অতীতের মতো গ্রাহকের অর্থ ও শেয়ার আত্মসাতের ঘটনা প্রতিরোধ করা সহজ হবে।
সম্প্রতি এক বৈঠকে বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেছেন, ব্রোকারেজ হাউজগুলোর তদারকি আরও কার্যকর করতে কমিশন নিয়মিত ও ঘন ঘন অডিট এবং পরিদর্শনের ব্যবস্থা করছে। এর মাধ্যমে বড় ধরনের অনিয়ম ঘটার আগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেছেন, বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য অনিয়মের ঝুঁকি আগেভাগেই মোকাবিলা করতে কমিশন তদারকি কার্যক্রম আরও জোরদার করছে। আমাদের লক্ষ্য কোনো অনিয়ম ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়া নয়; বরং আগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধ করা, যাতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।



