বিশেষ প্রতিনিধি, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে মার্জিন ঋণব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও গতিশীল এবং বিনিয়োগকারীবান্ধব করতে বিদ্যমান বিধিমালায় বড় পরিবর্তন আনছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ফলে পুঁজিবাজারে মার্জিন ঋণব্যবস্থায় কী অনুপাতে ঋণ দেওয়া হবে এবং কোনও শেয়ারে কী পরিমাণ মার্জিন ঋণ দেওয়া যাবে সেই সীমা নির্ধারণ করে বিধিমালা চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সংশোধিত মার্জিন বিধিমালায় জীবন বীমা খাত ছাড়া অন্য সব খাতের শেয়ারে মার্জিন ঋণের যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে সর্বোচ্চ প্রাইস আর্নিং রেশিও বা পিই ৪০ নির্ধারণ করা হয়েছে। আর জীবন বীমা কোম্পানির শেয়ারের ক্ষেত্রে নির্ধারণ করা হয়েছে প্রাইস টু বুক ভ্যালু রেশিও বা পিবি ৩। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেছেন, গত ১৩ আগস্ট মার্জিন বিধিমালার সংশোধনের চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন করে তা গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠানো হয়েছে। এ সপ্তাহের মধ্যে গেজেটটি প্রকাশ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। সংশোধিত নতুন বিধিমালায় সকল শেয়ার ও সিকিউরিটিজের জন্য মার্জিন ঋণের অনুপাত ১:১ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সহজ অর্থ হলো বিনিয়োগকারী তার নিজস্ব ইক্যুইটির সমপরিমাণ অর্থ মার্জিন ঋণ হিসেবে নিতে পারবেন।

এছাড়া জীবন বীমা ছাড়া কোম্পানির শেয়ারে পিই ৪০ এর বেশি হলে ওই শেয়ারে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না। একই সঙ্গে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস ঋণাত্মক হলেও শেয়ারটি মার্জিন সুবিধার বাইরে থাকবে। এক্ষেত্রে সর্বশেষ ট্রেডিং দিনের সমাপনী মূল্যকে সর্বশেষ ধারাবাহিক চার প্রান্তিকের ইপিএসের যোগফল দিয়ে ভাগ করে ট্রেইলিং পিই নির্ধারণ করতে হবে।

তবে জীবন বীমা কোম্পানির ক্ষেত্রে পিই নয়, পিবি অনুপাত বিবেচনা করা হবে। এসব কোম্পানির পিবি ৩-এর বেশি হলে অথবা নিট সম্পদ মূল্য বা এনএভি ঋণাত্মক হলে সংশ্লিষ্ট শেয়ারে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না। জীবন বীমা কোম্পানির ক্ষেত্রে ব্যবসার প্রকৃতি ও আর্থিক কাঠামোর কারণে পিইর পরিবর্তে পিবি অনুপাতকে মূল্যায়নের ভিত্তি করা হয়েছে।