পুঁজিবাজারে শেয়ার বিক্রির হিড়িক আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা
শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) শেয়ার বিক্রির চাপের মধ্য দিয়ে সূচকের বড় দরপতন হয়েছে। তবে টালমাতাল পরিস্থিতি বিরাজ থাকায় হঠাৎ করে শেয়ার বিক্রির হিড়িক পড়েছে। এ নিয়ে টানা চার কার্যদিবস পতনে আটকে আছে পুঁজিবাজার। টানা পতনে বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়ে পড়েছে। লেনদেনের পরিমাণ যেমন কমছে তেমনি কমছে বাজার মূলধন।
প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও সাইড লাইনে রয়েছে। যার প্রভাব পড়ছে পুঁজিবাজারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর পুঁজিবাজার নিয়ে নানা ধারনের ইতিবাচক কথা এবং উদ্যোগের ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু কিছু দিন ঊর্ধ্বমূখী থাকার পর বাজার আবার টানা পতন চলছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের আবার হতাশ হতে হচ্ছে। দেখা দিচ্ছে আস্থার সঙ্কট।
এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে লোকসানে শেয়ার বিক্রি করছেন বিনিয়োগকারীরা। এদিন ডিএসইতে সূচকের পাশাপাশি কমেছে লেনদেনে। তাছাড়া পুঁজি হারানোর ভয়ে আবারও দিশেহারা বিনিয়োগকারীরা। ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক কমেছে ৪৫ পয়েন্ট। গত চার কার্যদিবসে ডিএসইতে ৮৭ পয়েন্ট সূচকের দরপতন হয়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৪৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৮১৪ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৫৭ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ১৭৫ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯১ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৫৪ টির, দর কমেছে ৩১৮ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৯ টির। ডিএসইতে ৯৯৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১৩৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ১৩০ কোটি ৭৬ লাখ টাকার।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১১১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৬২৪ পয়েন্টে। সিএসইতে ২৪৪ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৫০ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৬৭ টির এবং ২৭ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১০৫ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



