পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য এখনই উত্তম সময়
মিজানুর রহমান, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ধরণের নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করে পুঁজিবাজার। পুঁজিবাজার যেমন শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর মূলধন সংগ্রহের প্রধান উৎস, তেমনি সাধারণ মানুষের জন্য একটি বিকল্প বিনিয়োগের স্থান। তবে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বারবার আস্থার সংকট, দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং নীতিনির্ধারকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ফলে দেশের অর্থনীতিতে তেমন কোন অবদান রাখতে পারছে না পুঁজিবাজার। দীর্ঘ মন্দার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে ৫ হাজার ৯০০ পয়েন্টের ঘর পেরোনো ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রধান সূচক মাত্র ১১ কার্যদিবসে হারিয়েছে ২৭৪ পয়েন্ট। একই সঙ্গে হাজার কোটি টাকার ওপরে থাকা লেনদেন নেমে এসেছে ৪০০ কোটি টাকার ঘরে। তাছাড়া টানা দরপতনে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত দরপতন হয়েছে।
ফলে এক মাসের বেশি সময় ধরে থেমে থেমে পুঁজিবাজারে ধারাবাহিক পতনের পরিপ্রেক্ষিতে, এখন তা হতাশ বিনিয়োগকারীদের জন্য লোকসান কমানোর এবং নতুন সম্ভাবনার পথ খুলে দেওয়ার ইঙ্গিতও দিচ্ছে। শেয়ারের দাম ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার ফলে বাজারটি এখন অবমূল্যায়িত হয়ে পড়েছে এবং এর ফলে পুঁজিবাজারে একটি অদ্ভুত সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া বেশ কিছুদিন ধরে তীব্র জ্বালানি সংকট বিরাজ করছে। একদিকে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে কমছে শিল্পকারখানার উৎপাদন, অন্যদিকে বাড়ছে কোম্পানিগুলোর ভবিষ্যৎ আয় নিয়ে শঙ্কা। এর সঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকখাতের চাপ, বৈশ্বিক সংঘাত ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা সব মিলিয়ে অর্থনীতির চাপ যেন এসে পড়েছে পুঁজিবাজারে।
ফলে গত সপ্তাহে খাতভিত্তিক লেনদেনে বস্ত্র খাতের শেয়ারের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে বস্ত্র খাত। ১২ দশমিক ৭ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সাধারণ বীমা খাত।
তৃতীয় অবস্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়ন খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। প্রকৌশল খাত ৯ দশমিক ৩ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা ব্যাংক খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৮ দশমিক ৯ শতাংশ।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে সব খাতের শেয়ারে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। সবচেয়ে বেশি ৫ দশমিক ২ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে বস্ত্র খাতে। এছাড়া সাধারণ বীমা খাতে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ, মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৪ দশমিক ১, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৪, আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ৩ দশমিক ৯ ও সেবা খাতে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে।



