আগস্টে পুঁজিবাজারে বাজার মূলধন কমেছে ১০ হাজার কোটি টাকা
মেহেদী হাসান, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: আগস্টজুড়ে দেশের পুঁজিবাজারে ছিল দরপতনের চাপ। ফলে টানা দরপতনকে নীরব ‘রক্তক্ষরণ’র সঙ্গে তুলনা করছে বিনিয়োগকারীরা। মুলত দেশের পুঁজিবাজার যেন দীর্ঘদিন ধরে এক অদৃশ্য সংকটের মধ্যে আটকে আছে। রাজনৈতিক সরকার বদলেছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেতৃত্বে এসেছে নতুন মুখ, নতুন বাজেটেও পুঁজিবাজারের গতি ফেরাতে বেশ কিছু ব্যবসাবান্ধব ও ইতিবাচক পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু তারপরও পুঁজিবাজারে কাঙ্খিত গতি ফিরছে না। সূচক স্থবির, লেনদেন কম ও নতুন বিনিয়োগকারীর আগ্রহ নেই, আর পুরোনো বিনিয়োগকারীদের বড় অংশ এখনো আস্থাহীন। ফলে আগস্টে লেনদেন খরা দেখা দিয়েছে পুঁজিবাজারে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন মার্জিন ঋণনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিভিন্ন পদক্ষেপ ও কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউসে আকস্মিক পরিদর্শন এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তৈরি হওয়া আতঙ্ক বাজারে বিক্রির চাপ বাড়িয়েছে। এর পাশাপাশি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ব্যাংক খাতের অস্থিরতাও পুঁজিবাজারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
আগস্ট মাস শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স প্রায় ৫ শতাংশ বা ২৯৮ পয়েন্ট কমেছে। একই সময়ে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত সব সিকিউরিটিজের বাজার মূলধন কমেছে ১০ হাজার ৩৯৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। শুধু সূচক ও বাজার মূলধন কমেনি, আগস্টে লেনদেনের পরিমাণেও বড় ধরনের সংকোচন দেখা গেছে। মাসের শুরুতে যেখানে এক দিনে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছিল, সেখানে মাসের শেষ কার্যদিবসে তা নেমে আসে ৪৭৭ কোটি ২৫ লাখ টাকায়।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শুরুতে সব সিকিউরিটিজের বাজার মূলধন ছিল ৭ লাখ ৫ হাজার ১৩৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। ৩১ আগস্ট মাসের শেষ কার্যদিবসে লেনদেন শেষে তা কমে দাঁড়ায় ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৭৩৯ কোটি ২৬ লাখ টাকায়। অর্থাৎ এক মাসে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ১০ হাজার ৩৯৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। তালিকাভুক্ত শেয়ার ও অন্যান্য সিকিউরিটিজের বাজারদর কমে যাওয়ার কারণেই সম্মিলিত বাজারমূল্যে এই পতন হয়েছে। এর ফলে সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিওর বাজারমূল্যের ওপর।
আগস্টের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইএক্স সূচক ছিল ৫ হাজার ৮৯৬ পয়েন্ট। মাসের শেষ কার্যদিবস ৩১ আগস্ট লেনদেন শেষে সূচকটি নেমে আসে ৫ হাজার ৫৯৮ পয়েন্টে। ফলে পুরো আগস্টে ডিএসইএক্স কমেছে ২৯৮ পয়েন্ট, যা শতাংশের হিসাবে প্রায় ৫ শতাংশ। তবে সূচকের পতনের পাশাপাশি লেনদেন কমে যাওয়াকেও বাজারের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, দরপতনের সময় লেনদেনের পরিমাণও কমে গেলে বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি এবং বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। আগস্টের শুরুতে ডিএসইতে এক দিনে ১ হাজার ৪৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছিল। ৩১ আগস্ট তা কমে দাঁড়ায় ৪৭৭ কোটি ২৫ লাখ টাকায়। অর্থাৎ এক মাসে দৈনিক লেনদেন কমেছে ৫৬৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা বা প্রায় ৫৪ শতাংশ।
বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সূচক ও বাজার মূলধনের পাশাপাশি লেনদেনের বড় ধরনের সংকোচন পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার দুর্বলতাকেও তুলে ধরছে। সাধারণত দরপতনের সময় কম দামে শেয়ার কেনার সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু বিনিয়োগকারীরা নতুন করে অর্থ বিনিয়োগে আগ্রহী না হলে বাজারে ক্রেতার সংকট দেখা দেয়।



