শেয়ার বাইব্যাক-মার্জারে বিএসইসির ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব ডিবিএর
শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারকে আরও গতিশীল, কার্যকর ও বিনিয়োগবান্ধব করতে প্রস্তাবিত কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ এর তৃতীয় সংশোধনীতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার বাইব্যাক এবং মার্জার ও অ্যাকুইজিশন (একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ) সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় বিধান অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।
এরই অংশ হিসেবে কোম্পানি আইন সংশোধনে প্রয়োজনীয় বিধান যুক্ত করার পাশাপাশি এসব বিষয়ে বিধি প্রণয়ন ও তদারকির ক্ষমতা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) দেওয়ার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। আজ বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানের কাছে ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত লিখিত সুপারিশ পাঠানো হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সদয় অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে।
শেয়ার তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার বাইব্যাক ও মার্জার-অ্যাকুইজিশনের প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানিয়েছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। এরই অংশ হিসেবে কোম্পানি আইন সংশোধনে প্রয়োজনীয় বিধান যুক্ত করার পাশাপাশি এসব বিষয়ে বিধি প্রণয়ন ও তদারকির ক্ষমতা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) দেওয়ার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।
ডিবিএর সুপারিশে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারকে আরও গতিশীল, কার্যকর ও বিনিয়োগবান্ধব করতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর নিজস্ব শেয়ার বাইব্যাকের আইনগত সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। এ জন্য প্রস্তাবিত কোম্পানি আইন সংশোধনীতে প্রয়োজনীয় বিধান সংযোজনের পাশাপাশি বাইব্যাকের ক্ষেত্রে বিধি ও প্রবিধান প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, তদারকি, মনিটরিং এবং সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষমতা বিএসইসিকে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।
একইভাবে তালিকাভুক্ত কোম্পানির মার্জার ও অ্যাকুইজিশনের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান জটিলতা ও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া কমাতে বিএসইসিকে প্রয়োজনীয় বিধি ও প্রবিধান প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের ক্ষমতা দেওয়ার সুপারিশ করেছে ডিবিএ। সংগঠনটি মনে করে, পুঁজিবাজার ও তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য বিএসইসি সংশ্লিষ্ট স্ট্যাটুটরি রেগুলেটরি অথরিটি হওয়ায় শেয়ার বাইব্যাক এবং মার্জার-অ্যাকুইজিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরির দায়িত্ব কমিশনের হাতেই থাকা উচিত।
এতে এসব বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা সহজ হবে। বর্তমানে কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর তৃতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে আইনটিকে আধুনিকায়নের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেখানে পুঁজিবাজারের প্রয়োজনীয়তাগুলো যথাযথভাবে প্রতিফলিত হওয়া দরকার।
সম্প্রতি কোম্পানি আইন সংশোধনের খসড়া নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায়ও আইনটিকে ব্যবসাবান্ধব ও যুগোপযোগী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাইব্যাকের বিষয়ে বিএসইসিও কোম্পানি আইন সংশোধনের খসড়ায় তালিকাভুক্ত কোম্পানির নিজস্ব শেয়ার কেনার সুযোগ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। ফলে একই বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও ডিবিএর অবস্থানে মিল দেখা যাচ্ছে।
ডিবিএ বলছে, বাইব্যাকের সুযোগ থাকলে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো তাদের মূলধন ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকরভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। অন্যদিকে মার্জার ও অ্যাকুইজিশনের প্রক্রিয়া সহজ হলে কোম্পানির পুনর্গঠন, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও করপোরেট কাঠামো পরিবর্তনের সুযোগ বাড়বে।
এসব বিষয়ে আধুনিক ও কার্যকর বিধিবিধান প্রণয়ন করা হলে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট পুনর্গঠন ও মূলধন ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারে গতিশীলতা বাড়বে এবং বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের স্বার্থ সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
ডিবিএ আশা করছে, পুঁজিবাজার উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যে কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর তৃতীয় সংশোধনীতে তাদের প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় বিধান যুক্ত করা হবে।



