দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সিটি ব্যাংক পিএলসির করপোরেট ব্র্যান্ডিং বিভাগের ইউনিট হেড ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. কামারুজ্জামানের ব্যক্তিগত আচরণ ও নৈতিক স্খলন নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সহকর্মী। বিষয়টি নিয়ে ব্যাংকের অভ্যন্তরে আলোচনা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কামারুজ্জামান। তাঁর দাবি, অভিযোগগুলো তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য বলছে, কিছুদিন আগে কামারুজ্জামানের স্ত্রী সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিনের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ওই অভিযোগে তাঁর স্ত্রী দাবি করেন, ২০২৪ সাল থেকে স্বামীর আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে ‘ফ্যাক্টরি ভিজিটের’ কথা বলে কামারুজ্জামান বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্টে রাতযাপন করতেন। এ সময় অন্য এক নারীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, ওই নারীর সঙ্গে কামারুজ্জামানের সম্পর্ক ঘিরে পারিবারিকভাবে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। তাঁকে সম্পর্ক থেকে ফেরানোর চেষ্টা করেও সফল হননি বলে অভিযোগকারীর দাবি। তবে স্ত্রীর অভিযোগে উত্থাপিত এসব দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

কয়েকজন সহকর্মীর দাবি, কামারুজ্জামানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ ওঠা ওই নারী সিটি ব্যাংকের একজন গ্রাহক। তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্টে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগটি সত্য হলে বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ব্যাংকের আচরণবিধি, পেশাগত নৈতিকতা এবং কর্মকর্তা-গ্রাহক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তবে এ বিষয়ে ব্যাংকের কোনো তদন্ত প্রতিবেদন বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনো পাওয়া যায়নি।

ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কামারুজ্জামানের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। তাঁদের দাবি, একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ঘিরে এ ধরনের অভিযোগ প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশ ও ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে। একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘অভিযোগগুলো সত্য হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। তবে তদন্তের আগে কারও বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়া উচিত নয়।’

সহকর্মীদের দাবি, কামারুজ্জামানের প্রথম বিবাহ বিচ্ছেদের পেছনেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল। পরে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সেই বিয়ের প্রায় ১২ বছর পর ফের অন্য এক নারীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে বলে তাঁরা দাবি করেন। কামারুজ্জামান এসব অভিযোগকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে অস্বীকার করেছেন।

ব্যাংকের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে এবং বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেওয়ার কথা আলোচনা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সিটি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. কামারুজ্জামান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বিষয়গুলোকে তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন এবং অভিযোগগুলোর কোনো ভিত্তি নেই বলে জানান। তবে স্ত্রীর সঙ্গে একটি মামলা চলমান আছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, কোনো ব্যাংক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত বিষয় যদি ব্যাংকের শৃঙ্খলা, পেশাগত আচরণ বা প্রতিষ্ঠানের সুনামের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে ওঠে, তাহলে অভিযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।