বিনিয়োগ নিয়ে ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে তদন্তের চাপে পুঁজিবাজার
শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দিন যতই যাচ্ছে পুঁজিবাজারে পতনের মাত্রা তত বাড়ছে। ফলে প্রতিনিয়ত বিনিয়োগ করা পুঁজি হারাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। যার ফলে আস্থাহীনতায় পুঁজিবাজার থেকে হাত গুটিয়ে নিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা যার ফলস্বরূপ সাম্প্রতিক সময়ে চরম স্থবিরতায় ধুঁকছে দেশের অর্থনীতির এই প্রধান খাতটি। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হলেও পুঁজিবাজারকে আস্থায় নিতে পারছে না বিনিয়োগকারীরা। আগস্টের মাঝামাঝি থেকে প্রায় এক মাস ধরে পতনের মধ্যে রয়েছে পুঁজিবাজার।
ফলে বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পাল্লা আবারও ভারী হচ্ছে। বাজারের এই পরিস্থিতিকে নীরব ‘রক্তক্ষরণ’র সঙ্গে তুলনা করছে বিনিয়োগকারীরা। তারা বলছেন, পুঁজিবাজারে ভয়াবহ দরপতন হচ্ছে। পুঁজি হারানোর দুশ্চিন্তায় তারা রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। ফলে সংসারেও অশান্তি দেখা দিচ্ছে।
মুলত বিনিয়োগ নিয়ে ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে তদন্তে চাপে পড়েছে পুঁজিবাজার। বড় অঙ্কের শেয়ার কিনলেই প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। এ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ফলে অর্থপ্রবাহ কমে গেছে পুঁজিবাজারে। এর প্রভাবে নতুন করে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এতে টানা পতনের মুখে পড়েছে পুঁজিবাজার। পুঁজিবাজারে টানা দরপতনে আবারও প্রশ্ন উঠেছে বাজারের এই দুরবস্থার জন্য কি নিয়ন্ত্রক সংস্থার অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ দায়ী। নাকি মূল সমস্যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট?
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজারে মন্দা চললেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে বাজারে। দীর্ঘ মন্দার প্রভাবে চলতি বছরের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৪ হাজার ৯১০ পয়েন্টে যায়, সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে একপর্যায়ে সূচকটি ৫ হাজার ৯০৩ পয়েন্টের ওপরে উঠে আসে। এতে দীর্ঘদিন ধরে বহন করা বিনিয়োগকারীদের বড় লোকসান কিছুটা কমে আসে। তবে গত এক মাসের টানা দরপতনে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স অবস্থান করছে ৫ হাজার ৫১৫ পয়েন্টে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অনিয়ম, কারসাজি ও দুর্বল করপোরেট গভর্ন্যান্স বন্ধে নিয়ন্ত্রকের কঠোর অবস্থান প্রয়োজন। কিন্তু একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের এমন একটি পরিবেশ দিতে হবে, যেখানে তারা জানবেন-নিয়ম হঠাৎ বদলাবে না এবং সব কোম্পানির ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রয়োগ হবে।
জানা গেছে, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এতে প্রায় তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গেছে ডিএসইর প্রধান সূচক। এদিন কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। তবে বেড়েছে টাকার পরিমাণে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইতে লেনদেনের প্রথম তিন ঘণ্টা সূচকের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকে। ফলে পতন কেটে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে এমন প্রত্যাশা করতে থাকেন বিনিয়োগকারীরা। অবশ্য বিনিয়োগকারীদের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। শেষ আধাঘণ্টায় বাজারে এক প্রকার ঢালাও দরপতন হয়। এতে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্য কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা সংকট আরো বাড়ছে।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ২২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৫১৫ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১০৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৯৫ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৭ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১০৩ টির, দর কমেছে ২৩০ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৪ টির। ডিএসইতে ৫৪৪ কোটি ৪২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ২৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫১৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকার ।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৮৬৬ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৮২ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৬৫ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৯০ টির এবং ২৭ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



