জিএসপি ইনভেস্টমেন্টের ৫ বছরের অনিয়ম তদন্তে বিএসইসি
শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে অনিয়ম প্রতিরোধ ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা প্রায় ১০০টি ব্রোকারেজ হাউজ পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ব্রোকারেজ হাউজগুলোর ওপর নজরদারি জোরদারে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে এরই অংশ বিশেষ মার্চেন্ট ব্যাংক জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের নিবন্ধন, আর্থিক অবস্থা, মার্জিন ঋণ কার্যক্রম এবং গ্রাহক হিসাব ব্যবস্থাপনাসহ পাঁচ বছরের বিভিন্ন কার্যক্রমে সম্ভাব্য অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
গত মঙ্গলবার কমিশনের মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের (এমআইআইডি) ইনস্পেকশন, ইনকোয়ারি অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে জারি করা এক অনুসন্ধান আদেশে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। মুলত পুঁজিবাজার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় মার্চেন্ট ব্যাংক ‘জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড’ এর যাবতীয় কর্মকাণ্ড অনুসন্ধানে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুঁজিবাজার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থে জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের কার্যক্রম নিয়ে অনুসন্ধান প্রয়োজন বলে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন বিষয়ে তদন্তের জন্য বিস্তারিত কার্যপরিধি (টার্মস অব রেফারেন্স) নির্ধারণ করা হয়েছে।
অনুসন্ধান আদেশ অনুযায়ী, তদন্তে প্রথমেই প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মার্চেন্ট ব্যাংক হিসেবে নিবন্ধন সনদের শর্তাবলি প্রতিপালনের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। এর আওতায় ইস্যু ব্যবস্থাপনা, পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনা, আন্ডাররাইটিংপট এবং নিজস্ব বিনিয়োগ কার্যক্রম বিধিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে কি না, তা যাচাই করবেন তদন্ত কর্মকর্তারা। এ ছাড়া গত পাঁচ বছরে মার্চেন্ট ব্যাংক হিসেবে নিবন্ধনের যোগ্যতা প্রতিষ্ঠানটি বজায় রেখেছে কি না, তাও পর্যালোচনা করা হবে।
পাশাপাশি অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের হিসাব, চুক্তিপত্র ও স্টেটমেন্ট পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট বিধিমালার অনুসরণ নিশ্চিত করা হবে। একইসঙ্গে মার্চেন্ট ব্যাংকটির দেওয়া মার্জিন ঋণ বিধিমালা অনুযায়ী বিতরণ করা হয়েছে কি না এবং এ ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে।
অনুসন্ধানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গত পাঁচ বছরের নিরীক্ষিত ও অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, হিসাববই, সহায়ক নথি এবং আর্থিক তথ্য প্রকাশ পর্যালোচনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে বিএসইসির মার্চেন্ট ব্যাংকার ও পোর্টফোলিও ম্যানেজার বিধিমালা, রিস্ক বেইজড ক্যাপিটাল অ্যাডিকোয়েসি রুলস, ২০১৯ এবং অন্যান্য প্রযোজ্য সিকিউরিটিজ আইন অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
আদেশে আরও বলা হয়, মার্চেন্ট ব্যাংকটির প্রকৃত নিট সম্পদের অবস্থান এবং কোনো ঘাটতি থাকলে তার কারণ অনুসন্ধান করা হবে। বিশেষ করে আনরিয়ালাইজড লোকসান, বিনিয়োগের অবচয়, ঋণাত্মক ইকুইটি বা অন্য কোনো আর্থিক সমন্বয়ের কারণে প্রকৃত নিট সম্পদে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় থাকবে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির কোড অব কন্ডাক্ট প্রতিপালনের বিষয়টি মূল্যায়ন করে নিবন্ধন সনদ বহাল বা নবায়নের বিষয়ে সুপারিশও প্রস্তুত করবে তদন্ত দল। তদন্তে কোনো ধরনের আইন লঙ্ঘন বা অনিয়মের প্রমাণ মিললে তা কমিশনের কাছে তুলে ধরা হবে।
বিএসইসি জানিয়েছে, পুঁজিবাজারে আইন প্রতিপালন নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় মনে হলে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো অতিরিক্ত নথি, লেনদেন বা কার্যক্রমও অনুসন্ধানের আওতায় আনা যাবে। অনুসন্ধান পরিচালনার জন্য বিএসইসির উপপরিচালক মো. শাহনেওয়াজ ও সহকারী পরিচালক নুজহাত খাদিজা মিমসহ তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। আদেশ জারির তারিখ থেকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে কমিশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।



